সর্বশেষ খবর
বন্যপ্রাণী বাঁচাতে বড় পদক্ষেপ, বাঁধ দেবে সেচ দপ্তর
প্রকাশিত: ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: উত্তরবঙ্গের বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণ রক্ষায় এবার একজোটে কোমর বেঁধে নামছে রাজ্য সেচ দপ্তর। জলদাপাড়া এবং গরুমারা জাতীয় উদ্যানের বাস্তুতন্ত্র তথা জীববৈচিত্র্যকে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের হাত থেকে বাঁচাতে একাধিক নদীবাঁধ নির্মাণ এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণের মেগা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সেচ দপ্তর সূত্রে খবর, চলতি বছর দুর্গাপুজো মিটলেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় এই দুই অরণ্যে বন্যপ্রাণীকুল ও তাদের আবাসভূমি রক্ষার কাজ শুরু হয়ে যাবে।
গত বছরের ৫ অক্টোবর উত্তরবঙ্গের হড়পা বান ও নদীর জলস্ফীতিতে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। জলদাপাড়ার দেওয়ানহাট, শালকুমারহাট এবং গরুমারার মডেল ভিলেজ সংলগ্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে গন্ডারসহ বহু বন্যপ্রাণী ভেসে গিয়েছিল। বনের সীমানা পেরিয়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়েছিল বন্যজন্তু। ভবিষ্যতে যাতে এই ধরনের মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেই উদ্দেশ্যেই এই স্থায়ী সুরক্ষাকবচ তৈরি করা হচ্ছে।
প্রশাসনের এই পরিকল্পনার অঙ্গ হিসেবে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানকে সুরক্ষিত করতে দেওয়ানহাটের দিকে তোর্ষা নদীতে শক্তিশালী বাঁধ দেওয়া হবে। অন্যদিকে, গরুমারা জাতীয় উদ্যানের সীমান্ত এলাকা বামনডাঙ্গা টন্ডুর কাছে জিরোবাঁধ এলাকা এবং মডেল ভিলেজের সামনে জলঢাকা নদীতেও বিশেষ বন্যা নিয়ন্ত্রণের কাজ করবে সেচ দপ্তর। পাশাপাশি, জলদাপাড়ার অপর প্রান্ত শালকুমার এলাকায় শিসামারা নদীর ভাঙন ও প্রকোপ থেকে স্থানীয় জনবসতি এবং বনাঞ্চল রক্ষা করতে প্রায় আড়াই একর জমি অধিগ্রহণ করার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। উত্তরবঙ্গের বন্যপ্রাণী প্রেমী এবং পরিবেশবিদদের মতে, সেচ দপ্তরের এই ডিজিটাল ও পরিকাঠামোগত পদক্ষেপ বনের অবলা জীবদের অকালমৃত্যু রুখতে অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা নেবে।

