সর্বশেষ খবর
আসছে জমির ‘আধার’: জালিয়াতি রুখতে বড় পদক্ষেপ
প্রকাশিত: ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: এবার এ রাজ্যের প্রতিটি জমির প্লট পেতে চলেছে নিজস্ব ‘ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন নম্বর’। সাধারণ আধার কার্ডের মতোই জমির সুরক্ষায় এই বিশেষ ব্যবস্থা চালু করছে প্রশাসন। সরকারিভাবে এই ব্যবস্থার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইউনিফায়েড ল্যান্ড পার্সেল আইডেন্টিফিকেশন নম্বর’। তবে প্রশাসনিক মহলে এটি ইতিমধ্যেই ‘জমির আধার’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।
নবান্ন সূত্রে খবর, রাজ্যের প্রায় ৬ কোটি প্লটের প্রত্যেকটির জন্য ১২ ডিজিটের একটি করে নির্দিষ্ট নম্বর বরাদ্দ করা হবে। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকরা জানিয়েছেন, শীঘ্রই রাজ্যজুড়ে এই পরিচয়পত্র দেওয়ার কাজ শুরু হতে চলেছে। এই নম্বর চালু হলে প্রতিটি জমি বা প্লট একটি সুনির্দিষ্ট ও স্থায়ী ডিজিটাল পরিচয় পাবে।
প্রশাসনের আশা, নতুন এই ব্যবস্থার ফলে জমি সংক্রান্ত যাবতীয় জালিয়াতি এবং ভুয়ো তথ্যপ্রমাণ তৈরির কারবার পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হবে। অনেক সময়ই দেখা যায়, একই জমি একাধিক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে প্রতারণা করা হয়। অথবা জাল দলিল তৈরি করে অন্যের জমি হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলে। ১২ ডিজিটের এই অনন্য নম্বরটি চালু হলে কম্পিউটারে এক ক্লিকেই জমির আসল মালিক ও তার সীমানার হদিস মিলবে। ফলে জাল দলিল তৈরির সুযোগ থাকবে না।
এর পাশাপাশি, গ্রামীণ ও শহর এলাকায় জমির সীমানা নিয়ে যে দীর্ঘমেয়াদি বিবাদ ও মামলা-মোকদ্দমা চলে, তাও অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। উপগ্রহ চিত্রের সাহায্যে জমির নিখুঁত মানচিত্র তৈরি করে এই নম্বর দেওয়া হবে। ফলে সীমানা নিয়ে প্রতিবেশীদের মধ্যে আর কোনও টানাপোড়েন থাকবে না। সাধারণ মানুষের জমি কেনাবেচার প্রক্রিয়াও আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বচ্ছ ও সহজ হবে। সূত্রের খবর, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দপ্তর একসময় মৌজা ম্যাপ তৈরি করেছিল। কিন্তু এক্ষেত্রে তা ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। কারণ, সেই ম্যাপ একেবারে নির্ভুল নয়। তাই মৌজা ম্যাপের জিও ডিজিটাইজেশনের প্রয়োজন পড়েছে। জমি জট কাটাতে প্রশাসনের এই ডিজিটাল পদক্ষেপ অত্যন্ত কার্যকরী হবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

