স্বার্থসিদ্ধির অভিসন্ধি
যে মানুষ ভালো, সৎ ও চরিত্রবান তাকে ভালো হতেই হবে ; কারণ তিনি নিশ্চিত, তার পক্ষে মন্দ হওয়া অসম্ভব। অনেক সময় দেখা যায়, দৃশ্যমান বা অদৃশ্য কোন শক্তির ভয়ে ভীত হয়ে কেউ ভালো হন, তাহলে বুঝতে হবে তার ভালোত্বটা স্বাভাবিক নয় কোন এক বিশেষ পরিস্থিতির চাপে পড়ে তিনি ভালো সাজতে চাইছেন। অথবা এটিও হতে পারে কোন পুরস্কার বা প্রতিদানের প্রত্যাশায় বা বিশেষ কোন মর্যাদালাভের লোভে, যা অন্য উপায়ে পূর্ণ হওয়া সম্ভব নয়, তার জন্য তিনি ভালো হতে চাইছেন। কিন্তু তার এই ভালো হওয়াটাও কৃত্রিম, যার পিছনে আছে বিশেষ স্বার্থসিদ্ধির অভিসন্ধি। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় প্রথম দিকে অন্যের কল্যাণ করবে বলেই কেউ কাজে নেমেছে। কিন্তু যত দিন যেতে থাকে ততই ব্যক্তিস্বার্থ, ক্ষমতার লোভ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে থাকে। অবশেষে সেই সব ব্যক্তির একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়ায় ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করা। তবে এসব ক্ষেত্রে কিছুকাল পরেই আত্মস্বার্থের চাপে লোক দেখানো ভালো মানুষের পালিশ ক্রমশ চলে যায় এবং আসল চেহারাটা বেরিয়ে পড়ে। আসলে স্বার্থসিদ্ধির যে প্রবৃত্তি এতদিন তার মনের কোণে লুকিয়ে ছিল এখন যেন তা দুর্বার হয়ে ওঠে। প্রকৃতপক্ষে আমাদের দেখতে হবে মানুষ হিসেবে একজন ব্যক্তি কেমন। কিছু করার থেকে কিছু হওয়া তাই অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একজন চরিত্রবান ব্যক্তির সান্নিধ্যে মানুষের মন-পবিত্র ও উন্নত হয়। তিনি নীরবে সকলের অলক্ষ্যে কল্যাণ করে যান এবং তার ফলও দীর্ঘস্থায়ী হয়। কিন্তু যিনি দেখিয়ে বেড়ান অন্যের উপকারের জন্য তার নাওয়া- খাওয়ার সময় নেই, বাস্তবে তিনি হয়তো ভালো কিছুই করছেন না। একজন মানুষের মধ্যে যখন বিনয়, নম্রতা, শ্রদ্ধা, নিঃস্বার্থপরতা, নৈতিক সাহস অথবা ছোটখাটো কিন্তু উদার কাজকর্মের ভাব ফুটে ওঠে তখন অন্যদের সঙ্গে তার পার্থক্য সহজেই বোঝা যায়। একজন মানুষ কীরকম, অন্যদের সঙ্গে তিনি কী ধরনের ব্যবহার করেন, জীবনের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গিই বা কী এসব দেখেই তিনি কতটা আধ্যাত্মিক মানুষ তা বোঝা যায়। অধ্যাত্মজগতের মানুষের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য এই যে, সব অবস্থাতেই তিনি যা, তিনি তা-ই থাকেন। কোন অবস্থাতেই তিনি অন্য রকম হতে পারেন না, স্বভাব বদলাতে পারেন না, এমনকি ভয় বা লোভেও না। এই পালিশ করা মানুষেরা কিছুদিনের জন্য কিছু মানুষকে ভুল বোঝাতে পারে কিন্তু বেশি দিনের জন্য সব মানুষকে তা পারে না। কালের প্রভাবে একটা সময়ে পালিশ ঠিক খসে পড়ে।

