সর্বশেষ খবর
অবশেষে শান্তিচুক্তি ইরান ও আমেরিকার, সমাজমাধ্যমে ঘোষণা ট্রাম্পের
প্রকাশিত: ১৬ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: দীর্ঘদিনের বৈরিতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে এক ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তিতে স্বাক্ষর করল ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আজ মঙ্গলবার ভোরে (ভারতীয় সময়) স্বয়ং আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই সমাজমাধ্যমে এই বড় ঘোষণা করেছেন। তাঁর এই বার্তার পর বিশ্ব রাজনীতিতে বড়সড় পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে।
নিজের সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশাল’-এ (Truth Social) একটি পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “...এই চুক্তি শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে আসবে।” দীর্ঘ টানাপোড়েন এবং কূটনৈতিক জটিলতা কাটিয়ে এই দুই পরমাণু শক্তিধর দেশের শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোকে চলতি শতকের অন্যতম বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।
আজ ভোরে ট্রাম্পের এই পোস্টটি সামনে আসতেই বিশ্বজুড়ে শোরগোল পড়ে যায়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই চুক্তির মূল লক্ষ্যই হলো মধ্যপ্রাচ্য সহ সমগ্র বিশ্বে একটি স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা। তবে চুক্তির শর্তাবলী বা কোন কোন বিষয়ে দুই দেশ সহমত হয়েছে, তা নিয়ে হোয়াইট হাউস বা তেহরানের পক্ষ থেকে এখনও বিস্তারিত কোনো রিলিজ দেওয়া হয়নি।
এর আগে তেহরানের পক্ষ থেকেও এই চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। ইরান স্পষ্ট করেছিল যে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে তারা এই সমঝোতায় রাজি, তবে তার জন্য লেবাননকেও এই প্রক্রিয়ার অংশ করতে হবে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের আজকের এই ঘোষণার পর মনে করা হচ্ছে, ওয়াশিংটন এবং তেহরান— দুই পক্ষই একে অপরের শর্ত ও সুরক্ষার বিষয়ে একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে পেরেছে।
যদিও কয়েক দিন ধরে ইজরায়েল ও লেবাননের মধ্যে চলা লাগাতার হামলা-পাল্টা হামলার কারণে এই চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে যে সংশয় তৈরি হয়েছিল, ট্রাম্পের এই ঘোষণার পর তা কেটে গেল। এই শান্তিচুক্তির ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আবহ অনেকটাই প্রশমিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে শান্তিচুক্তি ঘিরে ইজরায়েলের অন্দরেও তৈরি হয়েছে ক্ষোভ। ইজরায়েলের প্রবীণ সাংবাদিক তথা লেখক গিডন লেভির মতে, এই চুক্তি আদতে ইজরায়েলের বিদেশনীতির পরাজয়। ট্রাম্প আজ এ-ও দাবি করেছেন, শুক্রবার আনুষ্ঠানিক ভাবে চুক্তি সই হলে পাকাপাকি ভাবে খুলে যাবে হরমুজ প্রণালী।

