এত গরম কেন?
রূপম ভৌমিক
শিক্ষক
শ্রীরামকৃষ্ণ সেবাশ্রম বিদ্যাপীঠ
ব্যাপক গরমে নাভিশ্বাস অবস্থা। কেন এত গরম? কারণ এল নিনো। কি এই এল নিনো?
এল নিনো (El Niño) হলো একটি বিশেষ জলবায়ু পরিস্থিতি, যার অর্থ প্রশান্ত মহাসাগরের ক্রান্তীয় অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের জলের অস্বাভাবিক উষ্ণতা বৃদ্ধি। এটি একটি স্প্যানিশ শব্দ, যার আক্ষরিক অর্থ 'ছোট ছেলে' বা 'শিশু খ্রিস্ট' (কারণ দক্ষিণ আমেরিকার জেলেরা সাধারণত ক্রিসমাসের কাছাকাছি সময়ে এই উষ্ণ স্রোতের আবির্ভাব লক্ষ করতেন)।
এল নিনো কোনো নির্দিষ্ট ঝড় বা মেঘ নয়, বরং এটি বৈশ্বিক বায়ুপ্রবাহ এবং সমুদ্রের তাপমাত্রার একটি পর্যায়ক্রমিক পরিবর্তন, যা বিশ্বজুড়ে এবং বিশেষ করে ভারতীয় উপমহাদেশে আবহাওয়ার চরম বিপর্যয় ঘটায়।
প্রশান্ত মহাসাগরে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘এল নিনো’ (El Niño) পরিস্থিতির সূচনা হয়েছে, যার প্রভাব পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ার ওপর পড়তে শুরু করেছে। ভারতের আবহাওয়া দফতর (IMD) এবং বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (WMO) জুনের আবহাওয়া বুলেটিনে নিশ্চিত করেছে যে, মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়ে গিয়ে এল নিনো সক্রিয় হওয়ার সীমারেখা অতিক্রম করেছে।
এল নিনোর প্রভাবে এ বছরের গরমের মরশুমে কলকাতা ও দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে রেকর্ড ভাঙা তাপমাত্রা ও তীব্র তাপপ্রবাহ দেখা গেছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এই পরিস্থিতি বছরের বাকি সময়েও তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে উচ্চে রাখতে পারে।বর্ষায় ঘাটতির আশঙ্কা: সাধারণত এল নিনো সক্রিয় থাকলে ভারতে মৌসুমি বায়ু দুর্বল হয়ে পড়ে। জুন মাসে বর্ষা পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করলেও, আইএমডি-র আশঙ্কা যে, বর্ষার দ্বিতীয় ভাগে (বিশেষ করে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর) এল নিনো আরও শক্তিশালী বা 'সুপার এল নিনো'-র রূপ নিতে পারে। এর ফলে রাজ্যে বৃষ্টির পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশ কিছুটা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গের কৃষিপ্রধান জেলাগুলিতে (যেমন- পশ্চিম মেদিনীপুর ও বাঁকুড়া) ইতিমধ্যেই নদী-নালা ও ভূগর্ভস্থ জলের স্তর নেমে যাওয়ার খবর মিলছে, যা কৃষকদের চিন্তায় ফেলেছে। এল নিনোর প্রভাবে খরিফ ও পরবর্তী রবি চাষে বৃষ্টির ঘাটতিজনিত ক্ষতি হতে পারে।
আশার আলো: পজিটিভ আইওডি (Positive IOD)আবহাওয়াবিদদের মতে, ভারতের বর্ষা পুরোপুরি এল নিনোর ওপর নির্ভর করে না। যদি আগামী মাসগুলিতে ভারত মহাসাগরে একটি ‘পজিটিভ আইওডি’ (Positive Indian Ocean Dipole) বা অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়, তবে তা এল নিনোর ক্ষতিকর প্রভাবকে অনেকটাই প্রশমিত করতে পারবে এবং পশ্চিমবঙ্গকে বড় ধরনের খরা বা চরম বৃষ্টির ঘাটতি থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করবে।
আশার আলো যেন সত্যি হয় নাহলে ভারতীয় উপমহাদেশ বিরাট ক্ষতির সম্মুখীন হবে।

