সর্বশেষ খবর
উপেক্ষিতই রয়ে গেছে কুমারগ্রাম, পর্যটনের বিকাশে নতুন সরকার ভরসা
প্রকাশিত: ১৬ জুন, ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি: ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং অপার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা এক জনপদ। একদিকে ভারত-ভুটান সীমান্ত এবং অন্যদিকে অসম-বাংলা সীমানা ঘেঁষা পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলার একেবারে প্রান্তিক এক ব্লকের নাম কুমারগ্রাম। ডুয়ার্সের ঘন সবুজ জঙ্গল, পাহাড়ি নদী আর দিগন্তবিস্তৃত চা বাগানে মোড়া কুমারগ্রাম ব্লকে পর্যটন শিল্পের বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও বিগত সরকার সেভাবে কোনো সদর্থক পদক্ষেপ করেনি বলেই তীব্র অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী মহলের।
এই আবহে রাজ্যে নতুন সরকার গঠিত হতেই এক বুক আশা নিয়ে বুক বাঁধছেন কুমারগ্রামের প্রান্তিক মানুষ। তাঁদের আশা, নতুন সরকার এই অবহেলিত জনপদের পর্যটন পরিকাঠামোর আমূল পরিবর্তন ঘটাবে এবং কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। এলাকার মানুষের এই দীর্ঘদিনের দাবি ও ক্ষোভের কথা শেষ পর্যন্ত পৌঁছেছে প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে। রাজ্যের নবনিযুক্ত বন ও পরিবেশমন্ত্রী মনোজকুমার ওরাওঁ খতিয়ে দেখে দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
কুমারগ্রাম ব্লকের পরতে পরতে লুকিয়ে রয়েছে পর্যটনের রসদ। রায়ডাক ও সঙ্কোশ নদীর নৈসর্গিক রূপ, বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের বনাঞ্চল, আদিবাসী সংস্কৃতি এবং ভুটান পাহাড়ের পাদদেশের মনোরম পরিবেশ পর্যটকদের সহজেই আকর্ষণ করতে পারে। বর্তমানে পরিবেশবান্ধব পর্যটন বা 'ইকো-ট্যুরিজম' এবং 'হোমস্টে' সংস্কৃতির যে রমরমা দেশজুড়ে চলছে, তার আদর্শ ক্ষেত্র হতে পারত কুমারগ্রাম। কিন্তু উপযুক্ত সরকারি প্রচারের অভাব, অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং পর্যটকদের রাত্রিবাসের সুবন্দোবস্ত না থাকায় এই ব্লকটি আজও মূল পর্যটন মানচিত্রের বাইরেই রয়ে গেছে। পূর্বতন সরকারের এই উদাসীনতায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় যুবসমাজ, যাঁরা পর্যটনকে কেন্দ্র করে স্বনির্ভর হওয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন।
রাজ্যে নতুন সরকার আসার পর মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণে উত্তরবঙ্গের ভূমিকাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কুমারগ্রামেরই ভূমিপুত্র তথা আলিপুরদুয়ারের বিজেপি বিধায়ক মনোজকুমার ওরাওঁ এবার রাজ্যের বন ও পরিবেশমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছেন। ফলে ঘরের ছেলেকে মন্ত্রী হিসেবে পেয়ে কুমারগ্রামের মানুষের প্রত্যাশার পারদ এখন তুঙ্গে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, যদি এই অঞ্চলের নদী ও বনাঞ্চলকে সুরক্ষিত রেখে সুপরিকল্পিত ইকো-ট্যুরিজম সার্কিট গড়ে তোলা যায়, তবে এলাকার অর্থনৈতিক চেহারাটাই বদলে যাবে।
জনগণের এই দীর্ঘদিনের বঞ্চনা এবং পর্যটনের দাবির বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন রাজ্যের বন ও পরিবেশমন্ত্রী মনোজকুমার ওরাওঁ। তিনি জানিয়েছেন, কুমারগ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও বনভূমিকে রক্ষা করে কীভাবে পরিবেশবান্ধব পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা যায়, সেই বিষয়টি তিনি নিজে খতিয়ে দেখছেন। বন দপ্তরের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে দ্রুত একটি রূপরেখা তৈরি করা হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন মন্ত্রী।

