জেলা
সার অমিল, ক্ষুব্ধ চাষিরা
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: আমন চাষ চলছে। ধান উঠলেই আলু বসবে। দুই চাষের জন্যই সার কিনছেন চাষি। কিন্তু আউশগ্রাম-২ ব্লকের অভিরামপুর, এড়াল এলাকায় কৃষিক্ষেত্রে সারের জোগান কম বলে অভিযোগ চাষিদের। তাঁদের মতে সময়মতো সার চাপান না পেলে চাষের উপর প্রভাব পড়বে। যদিও আউশগ্রাম-২ ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সারের যোগান কম বলে কোনো খবর নেই। কলাইঝুটির চাষি কান্ত দাস, এড়ালের ভুবন মন্ডল বলেন, সমবায়গুলিতে সার নেই। তারা কেন সার রাখবে না? কৃষিমন্ত্রী চাষির স্বার্থে বলে গিয়েছিলেন নির্ধারিত মূল্যের থেকে বেশি দাম নেওয়া যাবে না। সমবায়ের অসুবিধা থাকলে সরকারের সঙ্গে বুঝে নিক। কিন্তু চাষি কেন সার পাবে না? অন্য চাষিরা জানান, সারের অভাবে ফলনে প্রভাব পড়বে। সমবায় সহ ব্যবসাদারদের অনেকেই সার আর নতুন করে নামাননি। এলাকার অনেকেই ফসল বাঁচাতে উচ্চ দামে সার কিনছেন অথবা অন্য এলাকা থেকে গাড়ি খরচ করে সার আনছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক চাষি বলেন, ন্যয্য মূল্যে বিক্রি করতে হবে বলে সমবায় আর সার আনেনি। এটা কাম্য নয়। আমাদের এই এলাকার চাষিরা কোথায় যাবে? অনেক জায়গায় ইউরিয়ার সঙ্গে অনুখাদ্য কিনতে হচ্ছিল। অথচ অনুখাদ্য নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। চাষির ব্যক্তিগত ইচ্ছার উপর নির্ভর করবে। বিজেপি নেতা অরুন ঘোষ বলেন, অনেকেই সার আনছেন না। ফলে চাষিরাও হাতের কাছে সহজে সার পাচ্ছে না। অথচ মাঠে সারের প্রয়োজন। অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানাচ্ছি। তবে কৃষিদপ্তরের তরফে একাধিক বার সারের দোকানে হানা দেওয়া হলেও কেন অসাধু ব্যবসায়ীদের বাগে আনা যাচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন চাষিরা। দ্রুত কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি তোলা হয়েছে। চাষিদের অভিযোগ, এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীর চক্রান্তের চাষিরা তার সুফল পাচ্ছেন না। তবে বিষয়টি নিয়ে অভিরামপুর এলাকার সমবায় কর্মী উজ্জ্বল মন্ডল বলেন, সাময়িক সমস্যা হয়েছিল। আমরা যদি ন্যায্য মূল্যে সার কিনতে পারি তাহলে আমরা সেই মূল্যে বিক্রি করব। কোম্পানিকে জানানো হয়েছে। সমস্যা মেটার আশ্বাসও মিলেছে। আশা করছি সামনের সপ্তাহ থেকে সার পাওয়া যাবে।

