জেলা
২১ বছরের যৌবন: আজন্ম বিপ্লবী অনাথবন্ধু
নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: পরাধীন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে মেদিনীপুরের মাটি বরাবরই অগ্নিকন্যা ও বীর বিপ্লবীদের আঁতুড়ঘর। কিন্তু ইতিহাসের পাতা ও জনমানসের স্মৃতি থেকে আজ যেন ক্রমেই ফিকে হয়ে আসছেন সেই সব অগ্নিযুগের নায়কেরা। সবংয়ের এক অত্যন্ত গরিব কৃষক পরিবারে জন্ম নেওয়া অনাথবন্ধু পাঁজা ছিলেন তেমনই এক বিস্মৃতপ্রায় বীর সৈনিক। মাত্র তিন বছর বয়সে পিতৃহারা হওয়া প্রত্যন্ত জলবিন্দু গ্রামের সেই শিশুই বড় হয়ে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বুকে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিলেন। মাত্র ২১ বছর ১০ মাস বয়সে অত্যাচারী ইংরেজ জেলাশাসক বার্নার্ড বার্জকে বুকচিতিয়ে গুলি করে ঝাঁঝরা করে দিয়েছিলেন এই তরুণ বিপ্লবী। ১৯৩৩ সালের ২ সেপ্টেম্বর। মেদিনীপুরের পুলিশ লাইন্স মাঠে তখন ফুটবল ম্যাচ চলছিল। সেই মাঠেই অতর্কিতে অত্যাচারী ব্রিটিশ ম্যাজিস্ট্রেট বার্জের ওপর চড়াও হন অনাথবন্ধু এবং তাঁর সহযোদ্ধা মৃগেন্দ্রনাথ দত্ত। অনাথবন্ধুর বন্দুকের গুলিতে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন বার্জ। তবে ব্রিটিশ রক্ষীদের পাল্টা গুলিতে মাঠের বুকেই বীরের মতো শহিদ হন অনাথবন্ধু। তার ঠিক পরদিনই হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তাঁর যোগ্য সঙ্গী মৃগেন্দ্রনাথ। মেদিনীপুরের জেলাশাসক হত্যা মামলায় পরবর্তীকালে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল ব্রজকিশোর চক্রবর্তী, রামকৃষ্ণ রায় এবং নির্মলজীবন ঘোষদের। আগামী ২ সেপ্টেম্বর এই বীরদেরই ‘আত্মবলিদান দিবস’। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আজ স্বাধীনতার এত বছর পরও মেদিনীপুরের এই সোনার ছেলেদের কথা মনে রাখেনি বর্তমান প্রজন্ম। হাতে গোনা কিছু স্থানীয় মানুষ এবং দেশপ্রেমিক সংগঠন ছাড়া এই বীরদের নাম নেওয়ার মতো আজ কেউ নেই। প্রখ্যাত মৎস্যজীবী বা রাজনৈতিক নেতাদের নিয়ে ডামাডোলের এই যুগে, দেশের জন্য রক্ত দেওয়া অনাথবন্ধু বা মৃগেন্দ্রনাথদের ইতিহাস আজ ধুলো জমছে মহাফেজখানায়। তাঁদের সেই অসামান্য লড়াই ও আত্মত্যাগকে নতুন করে স্মরণের আলোয় আনা আজ অত্যন্ত জরুরি।

