জেলা
মেমারিতে "আনন্দ ধারা"-র উদ্যোগে সাড়ম্বরে উদযাপিত হল রবীন্দ্র নৃত্য উৎসব "হৃদয়ে রবি"
নূর আহমেদ, মেমারি: সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে মেমারি কৃষ্টি প্রেক্ষাগৃহে অত্যন্ত সাড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল রবীন্দ্র নৃত্য উৎসব "হৃদয়ে রবি"। "আনন্দ ধারা" নৃত্য সংস্থার উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি এদিন দুপুর ২টো নাগাদ প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে শুরু হয়। মফস্বলের বুকে ভারতীয় সংস্কৃতির ধারাকে বাঁচিয়ে রাখতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যেই মূলত এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছিল। "আনন্দ ধারা" নৃত্য সংস্থার অন্যতম কর্ণধার সৈকত চোঙদার জানান, এই উৎসবটি কোনো বার্ষিক অনুষ্ঠান নয়, তবে সংস্কৃতির চর্চাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সময় সুযোগ বুঝে প্রতি বছরই এই ধরণের উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এবারের অনুষ্ঠানে মেমারি ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার বিভিন্ন নামী নৃত্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং স্কুলের প্রায় ২০০ থেকে ২১০ জন শিক্ষার্থী ও কলাকুশলী তাদের নৃত্য পরিবেশন করেন। অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ছিল শান্তিনিকেতনী আঙ্গিকে অভিনীত গীতিনাট্য ‘শ্যামা’। উৎসবের এই বিশেষ মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন একঝাঁক বিশিষ্ট গুণীজন। আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী পূর্ণিমা দত্ত, প্রখ্যাত কবি ও সাহিত্যিক অশোক কুমার মুখোপাধ্যায়, বিশিষ্ট ভরতনাট্যম গবেষক অমৃত মজুমদার প্রমুখ। এছাড়াও কলকাতা থেকে আগত ভরতনাট্যম শিল্পী ডঃ অর্কদেব ভট্টাচার্য উপস্থিত ছিলেন, যিনি সমগ্র অনুষ্ঠানটির সুষ্ঠু সঞ্চালনার দায়িত্বও পালন করেন। নৃত্যের সংজ্ঞা ও রবীন্দ্র নৃত্যের সৃজনশীলতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আয়োজকরা জানান, ভারতীয় শাস্ত্রীয় নৃত্যধারাকে পণ্ডিত উদয় শঙ্কর যেভাবে সৃজনশীল নৃত্যে রূপান্তরিত করেছিলেন, ঠিক তেমনই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও ছিলেন এক অনন্য রূপকার। তাঁর সৃষ্টি করা রবীন্দ্র নৃত্যও এক অর্থে অত্যন্ত সৃজনশীল। সেই ঐতিহ্যবাহী ধারাকে স্মরণ করেই এই উৎসব সফলভাবে সম্পন্ন হল। অনুষ্ঠানটিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সংস্কৃতিপ্রেমী মানুষদের উৎসাহ ছিল চোখে পড়ার মতো

