জেলা
ছাত্রীদের চড়, চুলের মুঠি ধরে মারধরের অভিযোগ গোবরডাঙায়
নিজস্ব প্রতিনিধি: কলেজের শিক্ষামূলক প্রজেক্টের (Project) প্রয়োজনে ছবি তুলতে গিয়েছিলেন চার ছাত্রী। কিন্তু সেখানে গিয়ে যে এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হবে, তা বোধহয় তাঁরা স্বপ্নেও ভাবেননি। উত্তর ২৪ পরগনার ঐতিহাসিক গোবরডাঙা জমিদারবাড়িতে ছবি তুলতে গিয়ে মারাত্মক হেনস্থা ও শারীরিক নিগ্রহের শিকার হলেন চার কলেজ ছাত্রী। বাধা দিতে গেলে এক ছাত্রীকে সপাটে চড় এবং অন্যজনকে চুলের মুঠি ধরে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। কাঠগড়ায় খোদ গোবরডাঙা জমিদারবাড়ির বর্তমান সদস্য সৌমিক প্রসন্ন মুখোপাধ্যায়। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ওই ছাত্রীরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কলেজের একটি প্রজেক্টের কাজের জন্য ওই চার ছাত্রী গোবরডাঙা জমিদারবাড়ির ছবি তুলতে ও তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন। হেরিটেজ বা ঐতিহ্যবাহী এই চত্বরে ছবি তোলার সময় আচমকাই তাঁদের সামনে এসে বাধা দেন জমিদার পরিবারের সদস্য সৌমিক প্রসন্ন মুখোপাধ্যায়। ছাত্রীদের দাবি, তাঁরা বিনীতভাবে নিজেদের পরিচয় এবং কলেজের প্রজেক্টের কথা জানালেও ওই যুবক অত্যন্ত রুক্ষ আচরণ শুরু করেন। বচসা চলাকালীন আচমকাই মেজাজ হারিয়ে ছাত্রীদের ওপর চড়াও হন সৌমিক। ছবি তুলতে নিষেধ করে এক ছাত্রীকে তিনি সপাটে চড় মারেন। অন্য ছাত্রীরা এই আচমকার প্রতিবাদ করতে গেলে এবং আক্রান্ত সহপাঠীকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে, পরিস্থিতি আরও ভয়ানক রূপ নেয়। অভিযোগ, অপর এক ছাত্রীর চুলের মুঠি ধরে নির্মমভাবে মারধর করেন ওই যুবক। ছাত্রীদের চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে এলে অভিযুক্ত যুবক তাঁদের হুমকি দিয়ে সেখান থেকে চলে যান। এই ঘটনার পর তীব্র আতঙ্ক ও মানসিক ট্রমার মধ্যে পড়েন ওই চার ছাত্রী। তাঁরা আর দেরি না করে সরাসরি স্থানীয় থানায় পৌঁছান। অভিযুক্ত সৌমিক প্রসন্ন মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে মারধর, হেনস্থা এবং শ্লীলতাহানির ধারায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী গোবরডাঙা জমিদারবাড়ির মতো একটি জায়গায় ছাত্রীদের এমন নিগ্রহের ঘটনায় এলাকায় তীব্র নিন্দার ঝড় উঠেছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

